Connect with us

ভিসা

‘শেনজেনের মতো ভিসা’ চালু করছে সৌদি-আমিরাত

Published

on

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। বিকাশমান এই পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে ‘শেনজেন ধাঁচের ভিসা’ চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের তিন দেশ— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন।

যদি এই ‘শেনজেন ধাঁচের ভিসা’ চালু হয়— সেক্ষেত্রে পর্যটকরা এই বিশেষ ভিসার আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চলের এই তিনটি দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন, আলাদা করে অন্য ভিসার কোনো প্রয়োজন তাদের পড়বে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হয়েছে আরব ভূখণ্ডের দেশগুলোর পর্যটন বাণিজ্য সংক্রান্ত জোট অ্যারাবিয়ান ট্রাভেল মার্কেটের (এটিএম) সম্মেলন ও মেলা। বুধবার সেই আয়োজনে এ ঘোষণা দেন বাহরাইনের পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রী ফাতিমা আল সাইরাফি। এ সময় তার সঙ্গে আমিরাত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি প্রিন্স আবদুল্লাহ আর সালেহ এবং সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের (সৌদি ট্যুরিজম অথরিটি— এসটিএ) শীর্ষ নির্বাহী ফাহাদ হামিদাদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ফাতিমা আল সাইরাফি বলেন, ‘(পর্যটন খাতে) আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাদে তাই উপসাগরীয় অঞ্চলভূক্ত দেশগুলোকে একত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। ২০২২ সালে আমরা ৯৯ লাখ পর্যটক পেয়েছি। কীভাবে এটা সম্ভব হলো?’

‘এটা সম্ভব হলো এই কারণে যে আমরা গত বছর বাহরাইনকে জিসিসি জোটের অন্যান্য গন্তব্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে পেরেছিলাম।’

২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের সময় বিদেশি দর্শকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প শুরু করেছিল উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল। গত বছর বাহরাইনে পর্যটকের উল্লম্ফণ ঘটেছিল মূলত সেই সময়েই।

জিসিসির সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা মোট ৬টি— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং ওমান। বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ফাতিমা আল সাইরাফি জানান, আপাতত সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইনে ‘শেনজেন ভিসা’ চালু হচ্ছে। পরে জিসিসির অন্যান্য সদস্যদেরও এই প্রকল্পে যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে তাদের।

সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ফাহাদ হামিদাদ্দিন বলেন, জিসিসি-ভুক্ত দেশ – সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন পৃথক গতিতে ভিসা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে ভিসা নীতি প্রণয়ন ‘সঙ্গত কারণেই বেশ জটিল’। 

তবে পারস্পরিক সহযোগিতাই এক্ষেত্রে পরিবর্তনের দিকপাল হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি জিসিসি-ভুক্ত দেশের সফলতা অন্য দেশগুলোর সহায়ক হবে।

অভিবাসন

কানাডায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভয়াবহ চিত্র!

Published

on

টরন্টো শহরের ফুটপাতে এবং বাসস্ট্যান্ডে উদ্বাস্তুদের আশ্রয়স্থল

একদিকে কানাডার অর্থনৈতিক অবস্থা চরম অবনতি ঘটছে, অন্যদিকে দেশটিতে বিদেশি নাগরিক এসে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে অভিবাসীর সংখ্যা। এদের মধ্যে শীর্ষ ১৫ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছর শরণার্থী আবেদন করেছেন প্রায় দেড় হাজার জন।

কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের তথ্য মোতাবেক, চলতি বছর শরণার্থী সুরক্ষা চেয়ে বাংলাদেশ থেকে এসে কানাডায় আবেদন করেছেন ১ হাজার ৪২৩ জন। ২০১৬ সালে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশিদের আবেদনের সংখ্যা ছিল ৪৫৩টি। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০৫টি। অন্যদিকে গত বছর এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯৪টিতে।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে নতুন পদ্ধতিতে রিফিউজি প্রটেকশন ক্লেইমের (আরপিডি) তথ্য হালনাগাদ করছে কানাডা। তাতে ২০১৩ থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৬৪২ জন বাংলাদেশি এ শরণার্থী হিসেবে আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০৬ জনের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে শরণার্থী হিসেবে আবেদন গৃহীত হয়েছে ৯২৪ জনের। বাতিল হয়েছে ৪৬০ জনের। অপর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে আবেদন হয়েছে ১৯টি। এছাড়া স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার ও অন্যান্যের আওতায় রয়েছে ১০১টি আবেদন।

টরন্টো শহরের ফুটপাতে এবং বাসস্ট্যান্ডে উদ্বাস্তদের আশ্রয়স্থল

সম্প্রতি কানাডার উদার ভিসানীতির প্রেক্ষিতে দেশে এবং বিদেশের ভুয়া ইমিগ্রেশন চক্র, রিক্রুট এজেন্সি এবং প্রতারক আদম ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পা দিয়ে দশ থেকে বিশ লাখ টাকা খরচ করে দশ বছরে মাল্টিপোল ভিসা নিয়ে প্রচুর ভিজিটর অ্যাসাইলাম নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। বেশিরভাগই বিরোধীদলের নেতাকর্মী হিসেবে এবং কেউ কেউ ভুয়া সমকামি দাবি করেও রিফুজি ক্লেইম করেছে বলে জানা গেছে। টরন্টোস্থ ড্যানফোর্থের বাংলা টাউনে গেলে নবাগতদের নানান কাহিনি শোনা যায় এবং চিত্র চোখে পড়ে।

এর মধ্যে পিয়ারসন এয়ারপোর্ট থেকে তিন বাংলাদেশি পরিবারকে কানাডায় ঢুকতে না দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। কারণ, এদের অফার লেটার ছিল জাল অথবা কেউ কেউ ইমিগ্রেশনে সঠিক জবাব দিতেও পারেননি, ইংরেজিতে অদক্ষতার কারণে।

যারা ভিজিট ভিসায় এসে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করেছেন, তাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। কানাডায় গেলেই চাকরি, বাসস্থান, বেকার ভাতা, পি আর কার্ডের স্বপ্ন নিয়ে যারা এসেছেন, তারা এখন থাকা-খাওয়া-বাসস্থান-চিকিৎসা-চাকরির চরম সংকটে পড়ে ফুড ব্যাংক থেকে খয়রাতি খাবার নিচ্ছেন। সরকারের দেওয়া মাত্র কয়েক মাসের জন্য প্রদত্ত মাত্র সাতশ’ ডলারে বেকার ভাতায় বাসা ভাড়াও হচ্ছে না। এই দুঃসহ এবং উদ্বাস্তু জীবন যাপন করে সর্বস্ব খুইয়ে কেউ কেউ এরই মধ্যে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

চলতি বছর কানাডায় শরণার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে আফ্রিকার নাইজেরিয়া থেকে, ১৪ হাজার ১৬০টি। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্য থেকে ভারত থেকে ৮ হাজার ১৭৯ জন, পাকিস্তান থেকে ৩ হাজার ৮২২, শ্রীলঙ্কা থেকে ১ হাজার ১৫৩, আফগানিস্তান থেকে ৭৭৫, নেপাল থেকে ২৯৯ ও ভুটান থেকে দু’জন আবেদন করেছেন। বর্তমানে কানাডায় বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী হিসেবে গমনের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।

এছাড়াও বিগত ক’বছরে শিরিয়া, আফগানিস্তান, ইউক্রেইন থেকে সরকার হাজার হাজার শরণার্থী আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে এসেছে। ফলে বড় বড় শহরগুলোতে বাসস্থানের ব্যবস্থা চরম সংকটে পরিণত হয়েছেন। টরন্টো শহরে সেন্টার এমন কি গির্জায়ও জায়গা হচ্ছে না। টরন্টোতে হোমলেসেরা স্টেশন, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড দখল করে নিয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা শরণার্থীদের স্রোত কমাতে— এ বছর দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি করে কানাডা। এ চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত দিয়ে কানাডায় শরণার্থী প্রবেশের সংখ্যা অনেক কমে যায়। উল্লিখিত চুক্তির ফলে কানাডায় শরণার্থীদের স্রোত অনেকটা থামানো গেছে।

এদিকে, আগামী দুই বছরে ৯ লাখ ৮৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে স্থায়ী বাসিন্দার স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে কানাডা। ২০২৪ সালে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ও ২০২৫ সালে ৫ লাখ মানুষকে তারা এই স্বীকৃতি দিচ্ছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলার।

ইমিগ্রেশন পরামর্শকেরা মনে করেন, যারা কানাডায় আসতে চান, তারা ভুয়া আদম ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা না দিয়ে সঠিক নিয়ম-নীতি মোতাবেক ইমিগ্রেশন নিয়ে আসা উচিত। কারণ, মাল্টিপোল ভিজিট ভিসা আর অভিবাসী ভিসা এক ক্যাটাগরি নয়। আগামী দুই বছরে ৯ লাখ ৮৫ লোক নেবে; তার মানে এই নয় যে, সব নাগরিক শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকে নেবে! এ বিষয়টিও কানাডায় ইমিগ্র্যান্ট ইচ্ছুকদের জানা একান্ত জরুরি।

Continue Reading

প্রবাস

যেকারনে হঠাৎ বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা স্থগিত করলো ওমান

Published

on

বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে ওমান। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর)  রয়্যাল ওমান পুলিশ (আরওপি) জানিয়েছে, আজ থেকে সব শ্রেণির বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন ভিসা ইস্যু স্থগিত কার্যকর হবে। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ওমান এ খবর জানিয়েছে।

আরওপি নিশ্চিত করেছে, ওমানে টুরিস্ট ও ভিজিট ভিসায় আসা প্রবাসীদের ভিসা পরিবর্তন করার সুযোগও স্থগিত করা হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে গত দুই বছরে অন্তত তিন লাখ বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। তবে দেশটিতে বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তেমন সুখকর নয়। কয়েক লাখ টাকা খরচ করে যাওয়া বাংলাদেশিরা ঠিকমতো কাজ পাচ্ছেন না। বিপুল টাকা খরচ করে যাওয়া কর্মীরা নিরুপায় হয়ে আইনসম্মত নয় এমন কাজ করছেন। তাই সামগ্রিকভাবে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া স্থগিত করেছে ওমান।

কূটনৈতিক সূত্রে ওমান থেকে গতকাল বুধবার এসব কথা জানা গেছে। রয়্যাল ওমান পুলিশ (আরওপি) গত মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে। তবে গতকাল পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তের কারণ জানায়নি। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলামের আলোচনার কথা রয়েছে।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওমানে লোকজন নেওয়ার ব্যাপারে যে সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল, মানব পাচারকারীরা তার অপব্যবহার করছেন। এর ফলে হয়তো ওমান ভিসা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কাজ করছেন, এটি বিবেচনায় নিয়ে ওমানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হবে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’



এই সিদ্ধান্তের আগে, প্রবাসীরা ভিজিট ভিসায় ওমানে প্রবেশ করে তা কাজের ভিসায় পরিবর্তন করতে পারতেন। কিন্তু এখন তাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে এবং কাজের ভিসায় আবার চাইলে আসতে পারবেন। তবে বাংলাদেশিরা এই সুযোগ পাবেন না।

রয়্যাল ওমান পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, পর্যটক ও ভ্রমণ ভিসায় যে বিদেশিরা ইতিমধ্যে ওমানে এসেছেন, তাঁদের জন্য ‘ভিসা পরিবর্তন’ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে পর্যটন ও ভ্রমণ ভিসায় ওমানে গিয়ে প্রবাসীরা কর্মী হিসেবে ভিসা নিতে পারতেন। ‘ভিসা পরিবর্তন’ কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় যাঁরা কর্মী হিসেবে ভিসা নিতে চান, তাঁদের নিজ দেশে ফিরে কাজের ভিসা নিয়ে ওমানে যেতে হবে। তবে এ সুযোগ বাংলাদেশিদের জন্য থাকছে না। কারণ, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা স্থগিত রয়েছে।

ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ মাসে অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ওমানে গেছেন। এই মুহূর্তে ওমানে বিভিন্ন দেশের কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। যার মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীই সর্বোচ্চ, প্রায় আট লাখ।

ওমানে লোকজন নেওয়ার ব্যাপারে যে সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল, মানব পাচারকারীরা তার অপব্যবহার করছেন। এর ফলে হয়তো ওমান ভিসা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। …ওমানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হবে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভিসার অপব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ওমান থেকে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, ওমান কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি প্রত্যেক তরুণের জন্য পাঁচজন করে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এই সুযোগের অপব্যবহার করছে একশ্রেণির মানব পাচারকারী। চাকরি আছে কি নেই, সেটি যাচাই না করেই বাংলাদেশের লোকজনকে ওমানে নেওয়া হচ্ছে। এরপর ওইসব লোকজন সেখানে প্রতিশ্রুত কাজ তো নয়ই, কোথাও কোথাও কোনো কাজই পাচ্ছেন না। ফলে তাঁরা পথঘাটে এমন সব কাজ করছেন, যা দেশটির প্রচলিত আইনে বিধিসম্মত নয়। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের এমন কর্মকাণ্ড ওমান কর্তৃপক্ষকে অসন্তুষ্ট করে তুলেছে।

মানব পাচারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আরেকটি সূত্র জানায়, কিছুদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়া বাংলাদেশিদের ওমানের উপকূলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছিল। কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের কাছে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলতে শুরু করেছে ওমান।

আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ ব্যাখ্যা না করলেও ভিসার অপব্যবহারের জন্য যে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে, ওমানের সাম্প্রতিক উদ্যোগে সেটি স্পষ্ট।

জানা গেছে, ইরান থেকে ছোট ছোট ট্রলারে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তেল পরিবহন করা হয়। ইরানে ফিরে যাওয়ার পথে সেই ট্রলারগুলো নানা পণ্য পরিবহন করে। লোকজনকে ইউরোপ নেওয়ার কথা বলে মানব পাচারকারীরা ওই সব ট্রলারে তুলে নেয়। গত কয়েক মাসে ওমানের উপকূল রক্ষা বাহিনী (কোস্ট গার্ড) ওইসব ট্রলারের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। ফলে নিয়মিত বিরতিতে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলাচলকারী ট্রলারে অভিযান চালিয়ে লোকজনকে উদ্ধার করছে। উদ্ধার করা এসব লোকের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

ওমানের একটি সূত্র জোর দিয়ে বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ ব্যাখ্যা না করলেও ভিসার অপব্যবহারের জন্য যে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে, ওমানের সাম্প্রতিক উদ্যোগে সেটি স্পষ্ট।

তবে ওমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেলে ধীরে ধীরে প্রবাসী আয়ে এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন কর্মী যেতে না পারলে পুরোনো যাঁরা আছেন, তাঁরাই প্রবাসী আয় পাঠাবেন। নতুন কর্মী গেলে বাড়তি প্রবাসী আয় পাঠানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেটি বন্ধ হয়ে যাবে।’

এক বিবৃতিতে আরওপি বলেছে, নীতি পর্যালোচনার আওতায় আরওপি সব ধরনের টুরিস্ট ও ভিজিট ভিসার পরিবর্তন স্থগিত করছে ওমানে আসা সব দেশের নাগরিকদের জন্য। 

এতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী নোটিশ দেওয়ার আগ পর্যন্ত মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা ইস্যু করা স্থগিত থাকবে।

Continue Reading

প্রবাস

ভুয়া সনদ ব্যবহার করে আমিরাতে ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশিরা

Published

on

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ভুয়া সনদ ব্যবহার করে ভিসা লাগানোয় দেশটিতে প্রবাসীদের ভিসা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতারক চক্রের কারণে দেশের সম্মানও ক্ষুন্ন হয়েছে। তবে সঠিক পন্থায় সরাসরি কাজের ভিসা নিয়ে আমিরাতে আসা যাচ্ছে।

দুবাইয়ের মুতিনা অঞ্চলে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ফুড কর্নার রেস্টুরেন্টের উদ্বোধনকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবু জাফর এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরব আমিরাতের কোনো ভিসাই বন্ধ নেই। সঠিক জায়গায় ভিসা নিয়ে দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটের লেবার উইং থেকে সত্যায়িত করে তবেই দেশ থেকে আসতে হবে তাকে। 

তবে শ্রমিক ভিসা বন্ধের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যোগ্যতা এবং দক্ষতা অনুযায়ী হচ্ছে সব ভিসাই।

তিনি বলেন, আমিরাতের ভিসায় এখন শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। সাধারণত ভিজিট ভিসায় এসে কাজের ভিসায় পরিবর্তন করা যায় না। তবে ভিজিট ফর জব সিকার নামের ভিসা নিয়ে স্কিল লোকেরা এসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পরিবর্তন করতে পারেন। এছাড়া স্কিল ভিসা তো চালুই রয়েছে।

সাধারণ প্রবাসী ও দেশ থেকে আমিরাতে আসতে আগ্রহীদের দালালদের থেকে সাবধান হতেও পরামর্শ দেন রাষ্ট্রদূত।

Continue Reading

Trending

Copyright © 2017 Medialyf.com "Welcome to Medialyf.com, your ultimate destination for daily lifestyle inspiration and informative blog posts. We are dedicated to bringing you the latest trends, tips, and insights to enhance your everyday life. At Medialyf.com, we believe that a well-rounded lifestyle encompasses various aspects such as health, fitness, fashion, home decor, travel, and more. Our team of passionate writers and experts curate engaging content that will empower you to live your best life. Immerse yourself in a world of captivating articles, practical advice, and thought-provoking stories. Whether you're seeking advice on wellness routines, exploring new culinary delights, or looking for fresh fashion ideas, we've got you covered. Our goal is to inspire and motivate you to make positive changes, embrace new experiences, and unlock your true potential. Stay connected with us as we update our blog daily with exciting articles that cater to every facet of your lifestyle. From practical tips to unleash your productivity to discovering hidden gems in your city, Medialyf.com is your trusted companion on the journey towards a fulfilling and balanced life. We value our readers and aim to create a vibrant community where you can share your thoughts, experiences, and insights. Join us in the pursuit of knowledge, growth, and genuine connections. Remember to subscribe to our newsletter for exclusive content, special offers, and the latest updates delivered directly to your inbox. Follow us on social media platforms to stay connected with the Medialyf.com community and participate in engaging discussions. Thank you for visiting Medialyf.com, where lifestyle meets inspiration. Explore, engage, and embark on an incredible journey of self-discovery and personal growth with us. Together, let's embrace a life that's vibrant, meaningful, and truly extraordinary."