Connect with us

উচ্চশিক্ষা

উচ্চশিক্ষার জন্য জনপ্রিয় হচ্ছে যেসব দেশ

Published

on

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোকে বেছে নেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, জাপান, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানির মতো ভিন্ন ভাষার দেশগুলোর প্রতিও আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই।

এর কারণ হিসেবে সেসব দেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, সেখানে ভাষাগত ব্যবধান থাকলেও স্কলারশিপের সুযোগ বেশি থাকে। টিউশন ফি সেইসঙ্গে থাকা খাওয়ার খরচও অপেক্ষাকৃত কম। আবার পড়াশোনার পর পর অনেক দেশে কাজেরও সুযোগ থাকে।

জাপান
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য জাপানে যাবার প্রচলন আগে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো বেড়েছে। জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল থেকে শুরু করে সামাজিক বিজ্ঞান, মেডিক্যাল, সাহিত্য, ব্যবসা প্রশাসন, পরিবেশসহ যেকোনো বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রির মেয়াদ বিষয় ভেদে চার থেকে ছয় বছর। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মেয়াদ দুই বছর এবং পিএইচডির মেয়াদ বিষয় ভেদে তিন থেকে চার বছর হয়ে থাকে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বলছেন, জাপানের শিক্ষকরা খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে পড়ান। সেখানকার অন্য ছাত্ররাও অনেক সহযোগিতা করেন। তাদের ভদ্রতার কোনো তুলনা হয় না। তবে সেখানে পড়াশোনার চাপ অনেক বেশি। তাই সেইরকম পড়াশোনার মন মানসিকতা নিয়েই দেশটিতে যেতে হবে।

জাপানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।

এর মধ্যে জনপ্রিয় স্কলারশিপ হলো মেক্সট স্কলারশিপ। এছাড়া এডিবি-জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, জাপান-বিশ্বব্যাংক বৃত্তিও উল্লেখযোগ্য।

এসব বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, ভর্তি ফি, থাকা-খাওয়া- যাতায়াতের খরচ, বই কেনা, হাত খরচ, চিকিৎসা ভাতা এমনকি জাপানে আসার বিমান ভাড়াও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

এসব স্কলারশিপ পেতে দেশটির সরকারি ওয়েবসাইট ও পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

জাপানের শিক্ষাবর্ষ দুটি, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর থেকে মার্চ। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কোর্স শুরু হওয়ার অন্তত ২ থেকে ৩ মাস আগে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যেন বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন গ্রহণের সাথে সাথে ভিসার জন্য দাঁড়াতে পারেন।

স্কলারশিপ ছাড়া এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি বছরে সাত লাখ থেকে বারো লাখ ইয়েন হয়ে থাকে। বাংলাদেশি টাকায় যা ছয় থেকে ১০ লাখের মতো। এজন্য বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দেশটিতে স্কলারশিপ নিয়েই পড়তে যান।

এরপরও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে সাধারণত ২৮ ঘণ্টার মতো কাজ করার সুযোগ পান। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে জাপানি ভাষা জানাটা বেশ জরুরি। স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে ইংরেজি ভাষায় পাঠ্যক্রম থাকায় জাপানি ভাষা না জানলেও খুব একটা সমস্যা নেই। তবে স্নাতকের জন্য ভাষা শিখতেই হবে।

জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। আবার শিক্ষার্থীরা চাইলে বাংলাদেশ থেকেও শিখে যেতে পারেন।

চীন


উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীর প্রিয় গন্তব্য এখন চীন। দেশটির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পিকিং ইউনিভার্সিটি, ফুদান ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইন চায়না, ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি এবং উহান ইউনিভার্সিটি।

এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, মেডিকেল, সমাজ বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, কৃষিসহ আরও নানা বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রির সুযোগ রয়েছে।

তবে মেডিক্যাল স্কুলগুলোয় পড়তে চাইলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের অনুমতিপত্র লাগে।

প্রতিবছর চীন বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রচুর স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল-চায়না গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ।

এছাড়া কনফুসিয়াস স্কলারশিপ, কাউন্সিল রোড অ্যান্ড বেল্ট স্কলারশিপ, মফকম স্কলারশিপ, কাস টাওয়াস স্কলারশিপ, ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপ, প্রভিন্সিয়াল স্কলারশিপ, এন্টারপ্রাইস স্কলারশিপ, ইয়েস চায়না স্কলারশিপ সেইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব কিছু স্কলারশিপের অফার করে থাকে।

এসব বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীর টিউশন ফি, হোস্টেল ফি, স্বাস্থ্যবিমা, মাসিক ভাতা সব অন্তর্ভুক্ত থাকে।

চীনে পড়তে হলে হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া চীনা ভাষা শেখাটা বাধ্যতামূলক না। সেখানকার স্নাতকোত্তর ও পরবর্তী পর্যায়ে ইংরেজি ভাষায় পড়ানো হয়।

তবে জীবনযাপন সহজ করার জন্য চীনা ভাষা শেখা জরুরি বলে জানিয়েছেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা। ভাষাটা জানা থাকলে সেখানকার স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করতে, রাস্তাঘাটে চলাফেরায় খুব সুবিধা হয়।

এছাড়া কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্কলারশিপ ছাড়া পড়তে যান সেই খরচও বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে তুলনামূলক কম।

চীনের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেছে, স্নাতকে পড়তে ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ইউয়ান বা বাংলাদেশি টাকায় আড়াই লাখ থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

তবে চীনে কেউ স্কলারশিপে পড়াশোনা করতে আসলে তাদের বৈধভাবে কাজের কোন সুযোগ নেই। সেখানে পড়াশোনাকে ফুল টাইম জব ধরা হয়। কেউ যদি নিয়ম ভেঙ্গে কোথাও কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে তার স্কলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে। আর সেখানে পড়ালেখার চাপও বেশি।

সাধারণত প্রথম কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আইইএলটিএস বা এইচএসকে (চীনা ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা) দরকার হয়। তবে কেউ যদি ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করে থাকে, তাহলে এমওআই (মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন) সনদ দিয়ে আবেদন করা যাবে।

চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা দূতাবাসের ওয়েবসাইট কিংবা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করা যেতে পারে।

তবে সেখানকার শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

জার্মানি

উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় যুক্তরাজ্যের পরের অবস্থানেই রয়েছে জার্মানি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, জার্মানিতে বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট কিছু ডিগ্রি প্রোগ্রামে বিনা পয়সায় উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া শিক্ষা-বৃত্তির সুবিধাও রয়েছে।

দেশটির প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আছে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ, ফ্রি ইউনিভার্সিটি বার্লিন, হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন, কেআইটি ইত্যাদি।

ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি সামার সেশন এবং মে থেকে জুলাই উইন্টার সেশন- এই দুই সময়কে টার্গেট করে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

তবে স্কলারশিপ ছাড়া জার্মানিতে পূর্ণ অর্থে পড়ালেখা করাটা বেশ ব্যয়বহুল। বিষয় ভেদে বছরে তিন হাজার থেকে ২৫ হাজার ইউরো টিউশন ফি দিতে হতে পারে। অর্থাৎ সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে ত্রিশ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

এছাড়া প্রথম বছর থাকা-খাওয়ার খরচ চালাতে আগে থেকেই প্রায় ১২ হাজার ইউরো বা প্রায় ১২ লাখ টাকার মতো সিকিউরিটি মানি জার্মানিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিয়ে রাখতে হয়। শিক্ষার্থীরা জার্মানিতে গেলে তাকে প্রতি মাসে ওই টাকা থেকে অল্প অল্প করে খরচ দেওয়া হয়। তবে কাজ করার সুযোগ থাকায় অনেকে আংশিক স্কলারশিপ পেলেও জার্মানিতে চলে আসেন।

জার্মানরা ইংরেজি ভাষায় বেশ সাবলীল হলেও পার্ট টাইম কাজ করার ক্ষেত্রে জার্মান ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

দেশটিতে যেতে জার্মান ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভাষা জানা থাকলে ছোট-বড় যেকোনো শহরেই কাজ পাওয়া সহজ হয়। জার্মানিতে পড়তে গেলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস করে যাওয়ার শর্ত দেয়।

তুরস্ক


উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় যুক্ত হয়েছে তুরস্কের নাম। এর একটি বড় কারণ বাংলাদেশের প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় তুরস্কের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ কম। এছাড়া বৃত্তির সুযোগও অনেক বেশি।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ব্যবসায় প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয় সেই সঙ্গে ইসলামের ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এবং রিসার্চ প্রোগ্রামের সুযোগ রয়েছে।

তুরস্কে ২০৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে । এর মধ্যে ১২৯টি সরকারি ও ৭৬টি বেসরকারি ৷ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলোতেই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ রয়েছে ।

সেখানকার শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দেশটিতে বছরে দুই সেমিস্টারে ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত খরচ হয়। এছাড়া থাকা খাওয়ার খরচও থাকে নাগালের মধ্যেই।

শিক্ষাবৃত্তি পেলে এই খরচটুকুও করতে হয় না। কেননা স্কলারশিপের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও টিউশন ফি, এক বছরের তুর্কি ভাষা কোর্স ফি, থাকা/খাওয়া, স্বাস্থ্যবিমা, মাসিক ভাতা, প্রথমবার যাওয়া ও পড়ালেখা শেষ করে দেশে ফেরার বিমান টিকিটের টাকা পাওয়া যায়। মাস্টার্স এবং পিএইচডির শিক্ষার্থীদের পরিবারসহ থাকার সুযোগ রয়েছে ।

স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মাসে ৮০০ লিরা (প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা), স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা মাসে ১১০০ লিরা (প্রায় ছয় হাজার টাকা) ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরা মাসে ১৬০০ লিরা (প্রায় আট হাজার টাকা) পেয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।

তুরস্কে বছরে সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সামার সেশন এবং মার্চ থেকে জুন ফল সেশনে ভর্তি হওয়া যায়। সেই অনুযায়ী কয়েক মাস আগে থেকেই আবেদনের পরামর্শ দিয়েছেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, স্নাতকের জন্য আবেদন করতে শিক্ষার্থীর বয়স ২১ বছরের নিচে, স্নাতকোত্তরে আবেদনের বয়স ৩০ বছরের নিচে, পিএইচডিতে ৩৫ বছরের নিচে হতে হবে। এছাড়া রিসার্চ প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে বয়স ৪৫ বছরের নিচে থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। তুরস্কে আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণযোগ্য নয়।

তুরস্কে শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ নেই বললেই চলে। বড় দুই একটি শহরে শিক্ষার্থীরা কাজ করতে পারলেও সেই আয় দিয়ে টিউশন ফি যোগানো সম্ভব হয় না। খুব বেশি হলে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হতে পারে। তাই স্কলারশিপ না পেলে পুরো টিউশন ফি নিয়েই পড়তে আসতে হবে।

গত কয়েক বছর ধরে মার্কিন ডলার বিনিময়ে তুরস্কের মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় সে সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে গেছে।

কোরিয়া


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ কোরিয়াকে বেছে নিচ্ছেন। এর একটি কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উপরের দিকে রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী টিউশন ফি খুব বেশি নয়।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা থাকায় থাকা খাওয়ার খরচ সীমিত। রাজধানী সিউলের মতো বড় শহরের বাইরে অন্যান্য শহরগুলোতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকলেও খরচ কম হয় বলে জানিয়েছেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০টির বেশি শিক্ষা-বৃত্তির সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশটির ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের পরিচালিত গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ প্রোগ্রাম (জিকেএস)।

এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তিসহ কোরিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলে সাধারণত ইংরেজি ও কোরিয়ান দুটি ভাষার দক্ষতার প্রমাণপত্র দেখাতে হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্নাতক ডিগ্রির মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে চার বছর, স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মেয়াদ এক থেকে দুই বছর এবং পিএইচডি ডিগ্রির মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর হয়ে থাকে।

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, সুইডেন, হাঙ্গেরি, স্পেন, চেক রিপাবলিক, ইত্যাদি দেশও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

উচ্চশিক্ষা

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, যেসব কাগজপত্র সঙ্গে আনবেন : পর্ব-৪

Published

on

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় আজ ছাপা হচ্ছে যে যে ডকুমেন্টস সঙ্গে আনবেন।

যে যে ডকুমেন্টস সঙ্গে আনবেন, তার একটি চেক লিস্ট আগে থেকে করে নিবেন। উড়োজাহাজে উঠার আগে মিলিয়ে নিবেন।

১.

পাসপোর্টের ভ্যালিড আছে কি না, তা খেয়াল রাখবেন। পাসপোর্টের মেয়াদ ছয় মাসের কম হলে উড়োজাহাজে উঠতে দিবে না। আপনার আসার আগে যদি দেখেন ছয় মাসের বেশি সময় আছে, তাহলে ঝুঁকি নিয়ে নবায়ন করার চিন্তা না করাই ভালো। কানাডার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পোস্টে পাসপোর্ট পাঠিয়ে তা নবায়ন করা যায় কানাডার যেকোনো জায়গা থেকে।

২.

পাসপোর্টে কানাডার ভিসার সঙ্গে যদি কোনো অ্যাপ্রুভাল লেটার থাকে, তাহলে সেটি আনতে ভুলবেন না।

৩.

কানাডার ইউনিভার্সিটি থেকে যে অফার লেটার পেয়েছিলেন, সেটি সঙ্গে রাখবেন।

৪.

আপনার যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ট্যাক্সের ডকুমেন্টস ভিসা ফাইল সাবমিট করার সময় জমা দিয়েছিলেন, তা সঙ্গে রাখবেন।

৫.

ভিসার সময় যে শিক্ষাগত সার্টিফিকেটগুলো জমা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আসবেন।

৬.

বাংলাদেশে যদি কোনো চাকরি বা কোনো জায়গায় স্বেচ্ছাসেবক বা কোনো সংগঠন করে থাকেন, সেই অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে আসবেন।
৭.

আপনার যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকে, তাহলে তা নিয়ে আসবেন। যদি না থাকে, তাহলে দরকার নেই।
৮.

জন্মনিবন্ধনের কাগজটি সঙ্গে রাখা ভালো।
৯.

বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে সেটা আনতে হবে।
১০.

যাঁরা স্পাউস নিয়ে আসবেন, তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট ও নিকাহনামার কাগজটি আনা ভালো।

১১.

স্টুডেন্টদের যদি ডিপেনডেন্ড চাইল্ড থাকে, তবে তার এবং আপনার টিকার কার্ড সঙ্গে আনবেন। যদি এই ডকুমেন্টটি বাংলাতে করা থাকে, তাহলে যেকোনো ডাক্তারের প্যাডে ইংলিশে নিলে স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে আনবেন।
১২.

আপনার আইইএলটিএসের ডকুমেন্টগুলো সঙ্গে রাখবেন।

১৩.

ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সময় আপনার হেলথ ইনস্যুরেন্স করা হয়ে থাকলে সেই ডকুমেন্টটি আনবেন। হেলথ ইনস্যুরেন্স না থাকলে কানাডায় এক দিনও থাকা নিরাপদ নয়। কারণ, এখানকার চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল, তাই আসার আগে ইনস্যুরেন্স করে আসবেন।

১৪.

ইউনিভার্সিটি আপনাকে ভর্তি হওয়ার সময় যে যে ডকুমেন্টগুলো দিয়েছে, সেগুলো আনতে হবে।

১৫.

বাড়িভাড়ার ডকুমেন্ট বা হোটেল বুকিংয়ের ডকুমেন্টটি সঙ্গে আনবেন, ভিসা অফিসার তা দেখতে চাইতে পারেন।

১৬.

প্লেনের টিকিটটি সব সময় হাতের কাছে রাখবেন।
১৭.

আপনার যদি কোনো পুরোনো অসুখ থাকে, সে অসুখ যদি আবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আগের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ডকুমেন্টগুলো আনতে ভুলবেন না। যদি কোনো ওষুধ নিয়মিত খেয়ে থাকেন, তবে তার প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখা ভালো।

সব ডকুমেন্টসের হার্ডকপি আনতে হবে। এর পাশাপাশি সব কাগজের কপি গুগল ড্রাইভে রেখে দিবেন। তা ছাড়া আরও একটি ব্যাকআপ হিসেবে এ ডকুমেন্টসগুলো একটি পেনড্রাইভে করে আনা ভালো। কানাডায় আসার পর আপনি কানাডার কাছে অপরিচিত, কানাডাও আপনার কাছে অপরিচিত। সে ক্ষেত্রে আপনার এ ডকুমেন্টগুলোই আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিবে কানাডার সঙ্গে। শুভ হোক আপনার কানাডায় পড়তে আসা।

Continue Reading

উচ্চশিক্ষা

অস্ট্রেলিয়ায় বৃত্তি নিয়ে কীভাবে পড়বেন

Published

on

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাবৃত্তিগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস শীর্ষে। এ শিক্ষাবৃত্তিতে বলতে গেলে প্রায় সবকিছুই বিনা মূল্যে মেলে। দেশটিতে আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, যাবতীয় পড়াশোনার খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রতি মাসে নগদ অর্থও

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গেল বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত ৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তবে দেশটিতে বৃত্তির এমন সুযোগও রয়েছে যাতে পড়াশোনা তো বিনা মূল্যেই, বরং সরকার উল্টো টাকা দেবে মাসে মাসে। সরকারি-বেসরকারি এসব শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন।

অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষাবৃত্তি

অস্ট্রেলিয়ান সরকারি শিক্ষাবৃত্তির মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস, এনডেভার পোস্টগ্র্যাজুয়েট বৃত্তি, ইন্টারন্যানশনাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ (আইপিআরএস), জন অলরাইট ফেলোশিপ, ইউনিভার্সিটি অব সিডনি ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ স্কলারশিপ, ম্যাকোয়ারি ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ, ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ, এডিলেইড স্কলারশিপ ইন্টারন্যাশনাল, ফ্লিন্ডারস ইন্টারন্যাশনাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অস্ট্রেলিয়ান বৃত্তির সুবিধা

অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাচেলর ডিগ্রিতে বছরপ্রতি গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাবৃত্তি যেমন রয়েছে, তেমন অস্ট্রেলিয়ার সরকারের নিজস্ব শিক্ষাবৃত্তিও রয়েছে। সাধারণত এই বৃত্তিগুলো কয়েক ধরনের হয়ে থাকে, যেমন: সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও থাকা-খাওয়ার খরচসহ, শুধু বেতন মওকুফ এবং ১০ থেকে ৮০ ভাগ পর্যন্ত বেতন মওকুফ বৃত্তি।
অস্ট্রেলিয়ার সব শিক্ষাবৃত্তিগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস শীর্ষে। এ শিক্ষাবৃত্তিতে বলতে গেলে প্রায় সবকিছুই বিনা মূল্যে দেয় অস্ট্রেলিয়ার সরকার। এর মধ্যে রয়েছে দেশটিতে আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, যাবতীয় পড়াশোনার খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রতি মাসে নগদ অর্থও। এই শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমটি পরিচালনা করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাধারণত অন্যান্য শিক্ষাবৃত্তি মাস্টার্স পর্যায়ের জন্য হলেও এই বৃত্তির জন্য ব্যাচেলর পর্যায়েও আবেদন করা যাবে।

গেল বছরের প্রথম আট মাসে ৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেনছবি: সংগৃহীত

আবেদনের যোগ্যতা

বেশির ভাগ বৃত্তিগুলো কেবল মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ের জন্য। এদের একেকটিতে একেক রকম সুবিধা পাওয়া যায়। তবে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে প্রাথমিকভাবে আবেদনকারীকে শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়ার আবশ্যিক শর্তগুলোর পাশপাশি প্রাথমিকভাবে ভালো পূর্বের একাডেমিক রেকর্ড, ইংরেজি ভাষা দক্ষতা এবং টিউশন ফি দেওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ সবার আগে বিবেচ্য। এ ছাড়া আবেদনকারীর নির্বাচিত বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিও গুরুত্ব রাখে। কিছু বৃত্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ডও সুবিধা হিসেবে কাজ করে।

যেভাবে আবেদন করবেন

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য এবং শর্তাবলি উল্লেখ করা থাকে। নির্বাচিত বৃত্তি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে তাঁদের গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম যোগ্যতা, কোনো কোনো বিষয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে, বৃত্তিটির কী কী সুবিধা থাকছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের শেষ তারিখ সম্পর্কে জেনে নিন। সেখান থেকেই বৃত্তির আবেদনপত্র, স্টেটমেন্ট অব পারপাস লেটারের নমুনা সংগ্রহ করুন। আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে ক্ষেত্রবিশেষে আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হতে পারে। সতর্কতার সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করুন এবং সব প্রমাণাদির কাগজপত্রসহ বৃত্তি প্রদানকারীর প্রদেয় পন্থায় তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আবেদন মঞ্জুর হলে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন

মনে রাখতে হবে, অস্ট্রেলিয়ায় বৃত্তির আবেদন মঞ্জুর হলেও আবেদনকারীকে স্টুডেন্ট ভিসায় আলাদা করে আবেদন করতে হবে। বৃত্তি পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া শতভাগ নিশ্চিত হয় না। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসাতে আবেদন করার আগে আবেদনকারীকে কয়েকটি দিক থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়াতে আসতে হলে উদ্দেশ্য অবশ্যই শিক্ষা হতে হবে। এর ব্যতিক্রম ভাবনা নিয়ে এ ভিসায় আবেদন না করাই শ্রেয়। আর সে ক্ষেত্রে সত্যিকার মেধাবী হওয়াটাই প্রাধান্য পায় সবার আগে। এর পরপরই অর্থনৈতিক ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে। এখানে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজের খরচ বহনের আর্থিক সচ্ছলতা আবেদনকারীর পরিবারের রয়েছে কি না, তা ভালো করে বিবেচনা করতে হবে।

যদিও পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের বেশ সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, তবে সে উপার্জনে অনেক সময় খরচ চালাতে হিমশিম খান অনেকে। তাই এ বিষয়টাকে অনেকটা বোনাস হিসেবে ধরে রাখাই ভালো। পরিশ্রম এবং যোগ্যতার সমন্বয়ে পাওয়া এ শিক্ষাবৃত্তি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে বাস্তব করে দিতে পারে। তাই উচ্চশিক্ষায় যাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় আসতে আগ্রহী, তাঁদের অবশ্যই উচিত আরও সচেতন হয়ে এ শিক্ষাবৃত্তিগুলোতে আবেদন করা।

Continue Reading

অভিবাসন

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, গাড়ি চালানো: পর্ব-৩

Published

on

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় আজ ছাপা হচ্ছে গাড়ি চালানো নিয়ে। কানাডায় লম্বা সময় থাকতে হলে গাড়ি থাকা প্রয়োজন। শুধু গাড়ি থাকলে কানাডায় চালক রেখে তা চালানোর সুযোগ নেই; সে ক্ষেত্রে নিজের গাড়ি নিজে চালাতে হবে। কানাডায় গাড়ি কেনা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজন। তীব্র ঠান্ডার দেশ কানাডা।

গাড়ি না থাকলে আপনাকে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে এ গণপরিবহন খুব সময়সাপেক্ষ। দেখা যায়, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দু–তিনবারও বাস বদল করতে হয়। অনেক সময় বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, বিমানযাত্রা: পর্ব-১

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, বাড়ি ভাড়া: পর্ব-২

একটি পুরোনো গাড়ির দাম কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে তিন চার থেকে হাজার ডলার ছিল, এখন তা বেড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ডলার হয়েছে। তবে এই পাঁচ থেকে ছয় হাজার ডলার খরচ আপনার জীবনকে সহজ করে দেবে, সেই সঙ্গে আয়ের পথও খুলে দেবে।

এ বাসের জন্য অপেক্ষা আপনার জীবনকে স্থবির করে দেবে। এখানে এসে প্রায় সবাই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস করতে হবে, চাকরি করতে হবে, রান্নাবান্না করতে হবে। ফলে আপনি কোনো জায়গায় আসা-যাওয়া করতে যদি লম্বা সময় নেন, তাহলে কোনো কাজই শেষ করতে পারবেন না। নিজের গাড়ি আপনার অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে।

তা ছাড়া একটি গাড়ি থাকলে আপনার আয়ের পথও খুলে যাবে। নিজের গাড়ি থাকলে করতে পারবেন ফুড ডেলিভারিসহ বিভিন্ন ডেলিভারির কাজ। যে কাজগুলো থেকে মোটামুটি ভালো আয় করতে পারবেন।

কানাডায় পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা ১৮ বছর হলেই গাড়ি চালানোর যোগ্য, তবে তার জন্য পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হয়। কানাডার ১০টি প্রদেশে এই পরীক্ষার আলাদা-আলাদা নিয়ম। অর্থাৎ লাইসেন্স ইস্যু করে প্রাদেশিক সরকার। তবে একটি নিয়ম সব প্রদেশেই আছে, তা হলো আপনাকে কমপক্ষে দুটি পরীক্ষা দিতে হবে। প্রথমটি এমসিকিউ (নলেজ টেস্ট)। সেটি পাস করলে ফিল্ড টেস্ট। ফিল্ড টেস্ট পাস করলে আপনি গাড়ি চালানোর জন্য যোগ্য হবেন।

ফিল্ড টেস্ট অনেকের কাছে কঠিন মনে হয়। যিনি আপনার পরীক্ষা নেবেন, তিনি আপনাকে চালকের আসনে বসিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরবেন। রাস্তায় গাড়ি চালাতে আপনি নিয়ম মানছেন কি না, তা দেখবেন এবং আপনার কনফিডেন্স লেভেল যদি ঠিক থাকে, তাহলে পরীক্ষায় পাস করবেন।

কেউ কেউ ফিল্ড টেস্টে সাত থেকে আটবারও ফেল করেন। আপনি যদি নিয়ম মেনে গাড়ি চালান, তাহলে একবারেই পাস করা সম্ভব। নলেজ টেস্টের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। কানাডায় আসার আগেই যে প্রদেশ আসবেন, সেই প্রদেশের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে এ সম্বন্ধে একটি ধারণা নিয়ে আসবেন।

ড্রাইভিং ফিল্ড টেস্ট দেওয়ার আগে কয়েকটি লেসন নিতে হবে ট্রেইনারদের কাছ থেকে। কানাডার প্রায় সব বড় শহরে বাংলাদেশি ট্রেইনার পাবেন। তাঁদের কাছ থেকে লেসন নেওয়া ভালো। কারণ, প্রাথমিক অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে কমিউনিকেশনে সুবিধা হবে। পরীক্ষা দেওয়ার সময় ট্রেইনাররা গাড়ি দিয়ে থাকেন পরীক্ষার জন্য।

একটি লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে সরকারি ফি বাবদ খরচ হয় গড়ে ৫০ ডলার। অন্যদিকে, যাঁরা আপনাকে গাড়ি চালানো শেখাবেন, তাঁরা প্রতি ঘণ্টার জন্য ৫০ থেকে ৬০ ডলার নিয়ে থাকেন। ড্রাইভিং শেখা ও লাইসেন্স পাওয়া বাবদ প্রায় এক হাজার ডলার খরচ ধরে রাখবেন।

ইন্টারন্যাশনাল বা বাংলাদেশের লাইসেন্স থাকলেও আপনি সেই লাইসেন্স দিয়ে কানাডায় সারা জীবন গাড়ি চালাতে পারবেন না। তবে কয়েকটি প্রদেশে নলেজ টেস্ট পাস করার পর কানাডায় ল্যান্ডিং ডেট থেকে তিন মাস পর্যন্ত গাড়ি চালাতে পারবেন। এর মধ্যে ফিল্ড টেস্টে পাস করতে হবে। তা না হলে ওই ইন্টারন্যাশনাল বা বাংলাদেশের লাইসেন্স কোনো কাজে আসবে না।

নলেজ টেস্টে পাস করার পর ড্রাইভিং ইন্সপেক্টর ছাড়া যাঁদের লাইসেন্স তিন বছরের পুরোনো, তাঁদের পাশে রেখে গাড়ি চালাতে পারবেন। তবে প্রদেশভেদে নিয়মের ভিন্নতা থাকতে পারে। কোনো অবস্থাতেই নিয়মের বাইরে গিয়ে লাইসেন্স ছাড়া একা গাড়ি চালাতে যাবেন না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে যদি পুলিশের কাছে ধরা পড়েন, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। এটা কানাডায় একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। যার ফলে ভিসা বাতিলসহ কানাডায় পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন।

একটি পুরোনো গাড়ির দাম কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে তিন চার থেকে হাজার ডলার ছিল, এখন তা বেড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ডলার হয়েছে। তবে এই পাঁচ থেকে ছয় হাজার ডলার খরচ আপনার জীবনকে সহজ করে দেবে, সেই সঙ্গে আয়ের পথও খুলে দেবে।

কানাডায় অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন। সব সময় মনে রাখবেন, গাড়ি চালানোর সব নিয়মকানুন মেনে চললে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক কম।
এ ফল সেশনে আপনার কানাডায় আগমন শুভ হোক এবং নিরাপদ হোক আপনার আগামীর ড্রাইভিং।

Continue Reading

Trending

Copyright © 2017 Medialyf.com "Welcome to Medialyf.com, your ultimate destination for daily lifestyle inspiration and informative blog posts. We are dedicated to bringing you the latest trends, tips, and insights to enhance your everyday life. At Medialyf.com, we believe that a well-rounded lifestyle encompasses various aspects such as health, fitness, fashion, home decor, travel, and more. Our team of passionate writers and experts curate engaging content that will empower you to live your best life. Immerse yourself in a world of captivating articles, practical advice, and thought-provoking stories. Whether you're seeking advice on wellness routines, exploring new culinary delights, or looking for fresh fashion ideas, we've got you covered. Our goal is to inspire and motivate you to make positive changes, embrace new experiences, and unlock your true potential. Stay connected with us as we update our blog daily with exciting articles that cater to every facet of your lifestyle. From practical tips to unleash your productivity to discovering hidden gems in your city, Medialyf.com is your trusted companion on the journey towards a fulfilling and balanced life. We value our readers and aim to create a vibrant community where you can share your thoughts, experiences, and insights. Join us in the pursuit of knowledge, growth, and genuine connections. Remember to subscribe to our newsletter for exclusive content, special offers, and the latest updates delivered directly to your inbox. Follow us on social media platforms to stay connected with the Medialyf.com community and participate in engaging discussions. Thank you for visiting Medialyf.com, where lifestyle meets inspiration. Explore, engage, and embark on an incredible journey of self-discovery and personal growth with us. Together, let's embrace a life that's vibrant, meaningful, and truly extraordinary."