Connect with us

উচ্চশিক্ষা

অস্ট্রেলিয়ায় বৃত্তি নিয়ে কীভাবে পড়বেন

Published

on

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাবৃত্তিগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস শীর্ষে। এ শিক্ষাবৃত্তিতে বলতে গেলে প্রায় সবকিছুই বিনা মূল্যে মেলে। দেশটিতে আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, যাবতীয় পড়াশোনার খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রতি মাসে নগদ অর্থও

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গেল বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত ৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তবে দেশটিতে বৃত্তির এমন সুযোগও রয়েছে যাতে পড়াশোনা তো বিনা মূল্যেই, বরং সরকার উল্টো টাকা দেবে মাসে মাসে। সরকারি-বেসরকারি এসব শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন।

অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষাবৃত্তি

অস্ট্রেলিয়ান সরকারি শিক্ষাবৃত্তির মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস, এনডেভার পোস্টগ্র্যাজুয়েট বৃত্তি, ইন্টারন্যানশনাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ (আইপিআরএস), জন অলরাইট ফেলোশিপ, ইউনিভার্সিটি অব সিডনি ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ স্কলারশিপ, ম্যাকোয়ারি ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ, ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ, এডিলেইড স্কলারশিপ ইন্টারন্যাশনাল, ফ্লিন্ডারস ইন্টারন্যাশনাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অস্ট্রেলিয়ান বৃত্তির সুবিধা

অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাচেলর ডিগ্রিতে বছরপ্রতি গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাবৃত্তি যেমন রয়েছে, তেমন অস্ট্রেলিয়ার সরকারের নিজস্ব শিক্ষাবৃত্তিও রয়েছে। সাধারণত এই বৃত্তিগুলো কয়েক ধরনের হয়ে থাকে, যেমন: সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও থাকা-খাওয়ার খরচসহ, শুধু বেতন মওকুফ এবং ১০ থেকে ৮০ ভাগ পর্যন্ত বেতন মওকুফ বৃত্তি।
অস্ট্রেলিয়ার সব শিক্ষাবৃত্তিগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস শীর্ষে। এ শিক্ষাবৃত্তিতে বলতে গেলে প্রায় সবকিছুই বিনা মূল্যে দেয় অস্ট্রেলিয়ার সরকার। এর মধ্যে রয়েছে দেশটিতে আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, যাবতীয় পড়াশোনার খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রতি মাসে নগদ অর্থও। এই শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমটি পরিচালনা করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাধারণত অন্যান্য শিক্ষাবৃত্তি মাস্টার্স পর্যায়ের জন্য হলেও এই বৃত্তির জন্য ব্যাচেলর পর্যায়েও আবেদন করা যাবে।

গেল বছরের প্রথম আট মাসে ৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেনছবি: সংগৃহীত

আবেদনের যোগ্যতা

বেশির ভাগ বৃত্তিগুলো কেবল মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ের জন্য। এদের একেকটিতে একেক রকম সুবিধা পাওয়া যায়। তবে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে প্রাথমিকভাবে আবেদনকারীকে শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়ার আবশ্যিক শর্তগুলোর পাশপাশি প্রাথমিকভাবে ভালো পূর্বের একাডেমিক রেকর্ড, ইংরেজি ভাষা দক্ষতা এবং টিউশন ফি দেওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ সবার আগে বিবেচ্য। এ ছাড়া আবেদনকারীর নির্বাচিত বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিও গুরুত্ব রাখে। কিছু বৃত্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ডও সুবিধা হিসেবে কাজ করে।

যেভাবে আবেদন করবেন

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য এবং শর্তাবলি উল্লেখ করা থাকে। নির্বাচিত বৃত্তি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে তাঁদের গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম যোগ্যতা, কোনো কোনো বিষয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে, বৃত্তিটির কী কী সুবিধা থাকছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের শেষ তারিখ সম্পর্কে জেনে নিন। সেখান থেকেই বৃত্তির আবেদনপত্র, স্টেটমেন্ট অব পারপাস লেটারের নমুনা সংগ্রহ করুন। আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে ক্ষেত্রবিশেষে আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হতে পারে। সতর্কতার সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করুন এবং সব প্রমাণাদির কাগজপত্রসহ বৃত্তি প্রদানকারীর প্রদেয় পন্থায় তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আবেদন মঞ্জুর হলে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন

মনে রাখতে হবে, অস্ট্রেলিয়ায় বৃত্তির আবেদন মঞ্জুর হলেও আবেদনকারীকে স্টুডেন্ট ভিসায় আলাদা করে আবেদন করতে হবে। বৃত্তি পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া শতভাগ নিশ্চিত হয় না। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসাতে আবেদন করার আগে আবেদনকারীকে কয়েকটি দিক থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়াতে আসতে হলে উদ্দেশ্য অবশ্যই শিক্ষা হতে হবে। এর ব্যতিক্রম ভাবনা নিয়ে এ ভিসায় আবেদন না করাই শ্রেয়। আর সে ক্ষেত্রে সত্যিকার মেধাবী হওয়াটাই প্রাধান্য পায় সবার আগে। এর পরপরই অর্থনৈতিক ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে। এখানে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজের খরচ বহনের আর্থিক সচ্ছলতা আবেদনকারীর পরিবারের রয়েছে কি না, তা ভালো করে বিবেচনা করতে হবে।

যদিও পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের বেশ সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, তবে সে উপার্জনে অনেক সময় খরচ চালাতে হিমশিম খান অনেকে। তাই এ বিষয়টাকে অনেকটা বোনাস হিসেবে ধরে রাখাই ভালো। পরিশ্রম এবং যোগ্যতার সমন্বয়ে পাওয়া এ শিক্ষাবৃত্তি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে বাস্তব করে দিতে পারে। তাই উচ্চশিক্ষায় যাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় আসতে আগ্রহী, তাঁদের অবশ্যই উচিত আরও সচেতন হয়ে এ শিক্ষাবৃত্তিগুলোতে আবেদন করা।

উচ্চশিক্ষা

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, যেসব কাগজপত্র সঙ্গে আনবেন : পর্ব-৪

Published

on

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় আজ ছাপা হচ্ছে যে যে ডকুমেন্টস সঙ্গে আনবেন।

যে যে ডকুমেন্টস সঙ্গে আনবেন, তার একটি চেক লিস্ট আগে থেকে করে নিবেন। উড়োজাহাজে উঠার আগে মিলিয়ে নিবেন।

১.

পাসপোর্টের ভ্যালিড আছে কি না, তা খেয়াল রাখবেন। পাসপোর্টের মেয়াদ ছয় মাসের কম হলে উড়োজাহাজে উঠতে দিবে না। আপনার আসার আগে যদি দেখেন ছয় মাসের বেশি সময় আছে, তাহলে ঝুঁকি নিয়ে নবায়ন করার চিন্তা না করাই ভালো। কানাডার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পোস্টে পাসপোর্ট পাঠিয়ে তা নবায়ন করা যায় কানাডার যেকোনো জায়গা থেকে।

২.

পাসপোর্টে কানাডার ভিসার সঙ্গে যদি কোনো অ্যাপ্রুভাল লেটার থাকে, তাহলে সেটি আনতে ভুলবেন না।

৩.

কানাডার ইউনিভার্সিটি থেকে যে অফার লেটার পেয়েছিলেন, সেটি সঙ্গে রাখবেন।

৪.

আপনার যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ট্যাক্সের ডকুমেন্টস ভিসা ফাইল সাবমিট করার সময় জমা দিয়েছিলেন, তা সঙ্গে রাখবেন।

৫.

ভিসার সময় যে শিক্ষাগত সার্টিফিকেটগুলো জমা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আসবেন।

৬.

বাংলাদেশে যদি কোনো চাকরি বা কোনো জায়গায় স্বেচ্ছাসেবক বা কোনো সংগঠন করে থাকেন, সেই অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে আসবেন।
৭.

আপনার যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকে, তাহলে তা নিয়ে আসবেন। যদি না থাকে, তাহলে দরকার নেই।
৮.

জন্মনিবন্ধনের কাগজটি সঙ্গে রাখা ভালো।
৯.

বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে সেটা আনতে হবে।
১০.

যাঁরা স্পাউস নিয়ে আসবেন, তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট ও নিকাহনামার কাগজটি আনা ভালো।

১১.

স্টুডেন্টদের যদি ডিপেনডেন্ড চাইল্ড থাকে, তবে তার এবং আপনার টিকার কার্ড সঙ্গে আনবেন। যদি এই ডকুমেন্টটি বাংলাতে করা থাকে, তাহলে যেকোনো ডাক্তারের প্যাডে ইংলিশে নিলে স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে আনবেন।
১২.

আপনার আইইএলটিএসের ডকুমেন্টগুলো সঙ্গে রাখবেন।

১৩.

ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সময় আপনার হেলথ ইনস্যুরেন্স করা হয়ে থাকলে সেই ডকুমেন্টটি আনবেন। হেলথ ইনস্যুরেন্স না থাকলে কানাডায় এক দিনও থাকা নিরাপদ নয়। কারণ, এখানকার চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল, তাই আসার আগে ইনস্যুরেন্স করে আসবেন।

১৪.

ইউনিভার্সিটি আপনাকে ভর্তি হওয়ার সময় যে যে ডকুমেন্টগুলো দিয়েছে, সেগুলো আনতে হবে।

১৫.

বাড়িভাড়ার ডকুমেন্ট বা হোটেল বুকিংয়ের ডকুমেন্টটি সঙ্গে আনবেন, ভিসা অফিসার তা দেখতে চাইতে পারেন।

১৬.

প্লেনের টিকিটটি সব সময় হাতের কাছে রাখবেন।
১৭.

আপনার যদি কোনো পুরোনো অসুখ থাকে, সে অসুখ যদি আবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আগের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ডকুমেন্টগুলো আনতে ভুলবেন না। যদি কোনো ওষুধ নিয়মিত খেয়ে থাকেন, তবে তার প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখা ভালো।

সব ডকুমেন্টসের হার্ডকপি আনতে হবে। এর পাশাপাশি সব কাগজের কপি গুগল ড্রাইভে রেখে দিবেন। তা ছাড়া আরও একটি ব্যাকআপ হিসেবে এ ডকুমেন্টসগুলো একটি পেনড্রাইভে করে আনা ভালো। কানাডায় আসার পর আপনি কানাডার কাছে অপরিচিত, কানাডাও আপনার কাছে অপরিচিত। সে ক্ষেত্রে আপনার এ ডকুমেন্টগুলোই আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিবে কানাডার সঙ্গে। শুভ হোক আপনার কানাডায় পড়তে আসা।

Continue Reading

অভিবাসন

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, গাড়ি চালানো: পর্ব-৩

Published

on

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় আজ ছাপা হচ্ছে গাড়ি চালানো নিয়ে। কানাডায় লম্বা সময় থাকতে হলে গাড়ি থাকা প্রয়োজন। শুধু গাড়ি থাকলে কানাডায় চালক রেখে তা চালানোর সুযোগ নেই; সে ক্ষেত্রে নিজের গাড়ি নিজে চালাতে হবে। কানাডায় গাড়ি কেনা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজন। তীব্র ঠান্ডার দেশ কানাডা।

গাড়ি না থাকলে আপনাকে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে এ গণপরিবহন খুব সময়সাপেক্ষ। দেখা যায়, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দু–তিনবারও বাস বদল করতে হয়। অনেক সময় বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, বিমানযাত্রা: পর্ব-১

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, বাড়ি ভাড়া: পর্ব-২

একটি পুরোনো গাড়ির দাম কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে তিন চার থেকে হাজার ডলার ছিল, এখন তা বেড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ডলার হয়েছে। তবে এই পাঁচ থেকে ছয় হাজার ডলার খরচ আপনার জীবনকে সহজ করে দেবে, সেই সঙ্গে আয়ের পথও খুলে দেবে।

এ বাসের জন্য অপেক্ষা আপনার জীবনকে স্থবির করে দেবে। এখানে এসে প্রায় সবাই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস করতে হবে, চাকরি করতে হবে, রান্নাবান্না করতে হবে। ফলে আপনি কোনো জায়গায় আসা-যাওয়া করতে যদি লম্বা সময় নেন, তাহলে কোনো কাজই শেষ করতে পারবেন না। নিজের গাড়ি আপনার অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে।

তা ছাড়া একটি গাড়ি থাকলে আপনার আয়ের পথও খুলে যাবে। নিজের গাড়ি থাকলে করতে পারবেন ফুড ডেলিভারিসহ বিভিন্ন ডেলিভারির কাজ। যে কাজগুলো থেকে মোটামুটি ভালো আয় করতে পারবেন।

কানাডায় পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা ১৮ বছর হলেই গাড়ি চালানোর যোগ্য, তবে তার জন্য পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হয়। কানাডার ১০টি প্রদেশে এই পরীক্ষার আলাদা-আলাদা নিয়ম। অর্থাৎ লাইসেন্স ইস্যু করে প্রাদেশিক সরকার। তবে একটি নিয়ম সব প্রদেশেই আছে, তা হলো আপনাকে কমপক্ষে দুটি পরীক্ষা দিতে হবে। প্রথমটি এমসিকিউ (নলেজ টেস্ট)। সেটি পাস করলে ফিল্ড টেস্ট। ফিল্ড টেস্ট পাস করলে আপনি গাড়ি চালানোর জন্য যোগ্য হবেন।

ফিল্ড টেস্ট অনেকের কাছে কঠিন মনে হয়। যিনি আপনার পরীক্ষা নেবেন, তিনি আপনাকে চালকের আসনে বসিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরবেন। রাস্তায় গাড়ি চালাতে আপনি নিয়ম মানছেন কি না, তা দেখবেন এবং আপনার কনফিডেন্স লেভেল যদি ঠিক থাকে, তাহলে পরীক্ষায় পাস করবেন।

কেউ কেউ ফিল্ড টেস্টে সাত থেকে আটবারও ফেল করেন। আপনি যদি নিয়ম মেনে গাড়ি চালান, তাহলে একবারেই পাস করা সম্ভব। নলেজ টেস্টের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। কানাডায় আসার আগেই যে প্রদেশ আসবেন, সেই প্রদেশের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে এ সম্বন্ধে একটি ধারণা নিয়ে আসবেন।

ড্রাইভিং ফিল্ড টেস্ট দেওয়ার আগে কয়েকটি লেসন নিতে হবে ট্রেইনারদের কাছ থেকে। কানাডার প্রায় সব বড় শহরে বাংলাদেশি ট্রেইনার পাবেন। তাঁদের কাছ থেকে লেসন নেওয়া ভালো। কারণ, প্রাথমিক অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে কমিউনিকেশনে সুবিধা হবে। পরীক্ষা দেওয়ার সময় ট্রেইনাররা গাড়ি দিয়ে থাকেন পরীক্ষার জন্য।

একটি লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে সরকারি ফি বাবদ খরচ হয় গড়ে ৫০ ডলার। অন্যদিকে, যাঁরা আপনাকে গাড়ি চালানো শেখাবেন, তাঁরা প্রতি ঘণ্টার জন্য ৫০ থেকে ৬০ ডলার নিয়ে থাকেন। ড্রাইভিং শেখা ও লাইসেন্স পাওয়া বাবদ প্রায় এক হাজার ডলার খরচ ধরে রাখবেন।

ইন্টারন্যাশনাল বা বাংলাদেশের লাইসেন্স থাকলেও আপনি সেই লাইসেন্স দিয়ে কানাডায় সারা জীবন গাড়ি চালাতে পারবেন না। তবে কয়েকটি প্রদেশে নলেজ টেস্ট পাস করার পর কানাডায় ল্যান্ডিং ডেট থেকে তিন মাস পর্যন্ত গাড়ি চালাতে পারবেন। এর মধ্যে ফিল্ড টেস্টে পাস করতে হবে। তা না হলে ওই ইন্টারন্যাশনাল বা বাংলাদেশের লাইসেন্স কোনো কাজে আসবে না।

নলেজ টেস্টে পাস করার পর ড্রাইভিং ইন্সপেক্টর ছাড়া যাঁদের লাইসেন্স তিন বছরের পুরোনো, তাঁদের পাশে রেখে গাড়ি চালাতে পারবেন। তবে প্রদেশভেদে নিয়মের ভিন্নতা থাকতে পারে। কোনো অবস্থাতেই নিয়মের বাইরে গিয়ে লাইসেন্স ছাড়া একা গাড়ি চালাতে যাবেন না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে যদি পুলিশের কাছে ধরা পড়েন, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। এটা কানাডায় একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। যার ফলে ভিসা বাতিলসহ কানাডায় পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন।

একটি পুরোনো গাড়ির দাম কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে তিন চার থেকে হাজার ডলার ছিল, এখন তা বেড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ডলার হয়েছে। তবে এই পাঁচ থেকে ছয় হাজার ডলার খরচ আপনার জীবনকে সহজ করে দেবে, সেই সঙ্গে আয়ের পথও খুলে দেবে।

কানাডায় অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন। সব সময় মনে রাখবেন, গাড়ি চালানোর সব নিয়মকানুন মেনে চললে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক কম।
এ ফল সেশনে আপনার কানাডায় আগমন শুভ হোক এবং নিরাপদ হোক আপনার আগামীর ড্রাইভিং।

Continue Reading

অভিবাসন

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, বাড়ি ভাড়া: পর্ব-২

Published

on

কানাডায় ফল সেশনে পড়তে আসার প্রস্তুতি, বিমানযাত্রা: পর্ব-১ –এর ধারাবাহিকতায় আজ ছাপা হচ্ছে বাড়ি ভাড়া নিয়ে।

কানাডায় আসার আগেই বাংলাদেশ থেকে বাড়ি ঠিক করে আসতে হবে, তা না হলে আপনি বড় ধরনের সমস্যায় পড়বেন। এক রাতও যদি হোটেলে থাকতে হয়, তাহলে ১৫০ ডলারের বেশি খরচ হয়ে যাবে। তা ছাড়া ফল সেশনের সময় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে কানাডায় আসেন বলে হোটেলে জায়গা না–ও পেতে পারেন।

নতুন অবস্থায় কানাডায় বাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন। বড় বড় অ্যাপার্টমেন্ট কোম্পানি কোনো গ্যারান্টর ছাড়া এবং এক বছরের কন্ট্যাক্ট ছাড়া বাড়ি ভাড়া দেয় না। ফলে নতুনদের বাড়ি পেতে সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে আপনাকে পরিচিত লোকজনের মাধ্যমে বাড়ি খুঁজে নিতে হবে। কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশপাশে বাংলাদেশিদের অনেক রেন্টাল প্রপার্টি আছে, সেখান থেকে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়

প্রথমে খুঁজবেন, আপনি যে শহরে আসবেন, সেখানে আপনার কোনো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিচিতজন আগে থেকে আছেন কি না। যদি কেউ থাকেন, তাঁর সাহায্য চাইতে পারেন। তাঁরা যে বাসায় থাকেন, সেখানে রুম খালি থাকলে বা তাঁদের সঙ্গে রুম শেয়ারও করতে পারেন, তা হবে সবচেয়ে ভালো। কারণ, শুরুতে একটি নতুন জায়গায় পরিচিত পরিবেশে থাকা ভালো। রুম শেয়ার করে কয়েক দিন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে তারপর নতুন বাসা খুঁজতে পারেন।

যদি পরিচতি কেউ না থাকেন, তাহলে কানাডার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক পেজ রয়েছে। আসার আগে সেই পেজগুলোয় আপনি আপনার আসার কথা জানাবেন এবং আপনার যে ধরনের রুমের প্রয়োজন হয়, সেটা লিখবেন। তা ছাড়া যে শহরে আসবেন, সেই শহরের বাংলাদেশিদেরও ফেসবুক পেজ রয়েছে, সেখানে লিখলেও তাঁদের সাহায্য পাবেন। কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশপাশে বাংলাদেশিদের অনেক রেন্টাল প্রপার্টি আছে, সেখান থেকে বাড়ি ভাড়া পেতে পারেন।

এরপর দেখতে পারেন কানাডার রেন্টাল ওয়েবসাইটগুলো। কানাডা সবচেয়ে জনপ্রিয় রেন্টাল ওয়েবসাইট হচ্ছে www.kijiji.ca। এখানে বেজমেন্ট থেকে শুরু করে সব ধরনের রুম পাবেন, এমনকি এক মাসের জন্যও রুম চাইলে পাবেন। যেহেতু বাড়িওয়ালা আপনার অপরিচিত, তাই আপনাকে আগে থেকে অ্যাডভান্স দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকারও হতে পারেন, তাই সাবধান হতে হবে এ ধরনের ওয়েবসাইটে বাসা খোঁজার আগে। যদি একান্তই বাসা খুঁজে না পান, তাহলে এয়ার বিএনবিতে (Airban) কয়েক দিনের জন্য রুম নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খরচ বেশি হবে।

যদি পরিচিত কেউ না থাকেন, তাহলে কানাডার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক পেজ রয়েছে। আসার আগে সেই পেজগুলোয় আপনি আপনার আসার কথা জানাবেন এবং আপনার যে ধরনের রুমের প্রয়োজন হয়, সেটা লিখবেন। তা ছাড়া যে শহরে আসবেন, সেই শহরের বাংলাদেশিদেরও ফেসবুক পেজ রয়েছে, সেখানে লিখলেও তাঁদের সাহায্য পাবেন। কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশপাশে বাংলাদেশিদের অনেক রেন্টাল প্রপার্টি আছে, সেখান থেকে বাড়ি ভাড়া পেতে পারেন।

আর যাঁরা বাসায় থাকতে চান না, তাঁদের জন্য কানাডার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল (ডর্ম) আছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বা তার আশপাশে। টিউশন ফি জমা দেওয়ার সময় ডর্ম বুকিং দিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, ডর্মগুলো অনেক ব্যয়বহুল। এখানে থাকা-খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা থাকলেও খরচ হবে দুই থেকে তিন গুণ বেশি।

যদি কোনো অ্যাপার্টমেন্টের রুম ভাড়া নেন, তাহলে ভাড়া পড়বে বেশি। কোনো বাসা যদি শেয়ার করে একটি রুমে থাকেন, তাহলে ভাড়া কিছুটা কম পড়বে। আর সবচেয়ে কম পড়বে যদি কোনো বাসার বেজমেন্টে (রুমের অর্ধেকটা মাটির নিচে) টরন্টো, ভ্যানকুভার এই ধরনের মেগা সিটিতে বাড়িভাড়া অনেক বেশি। এখানে একটি রুমের জন্য এক হাজার ডলারও লাগতে পারে। অন্যদিকে ছোট শহরগুলো, যেমন রেজাইনা, উইনিপেগ ধরনের শহরের ইউনিভার্সিটিগুলোর আশপাশে ৪০০ ডলার দিয়েও রুম পাবেন।

বাসাভাড়া কিছু বেশি হলেও পাবলিক ট্রানজিট (বাস বা ট্রেন) স্টপেজের হাঁটাদূরত্বে বাসা নেবেন। কারণ, শীতের সময় পাঁচ মিনিট হাঁটা কঠিন হয়ে যায়। মনে রাখবেন, কানাডার শীতের কয়েক মাস মাইনাস ১৫-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা স্বাভাবিক তাপমাত্রা।

Continue Reading

Trending

Copyright © 2017 Medialyf.com "Welcome to Medialyf.com, your ultimate destination for daily lifestyle inspiration and informative blog posts. We are dedicated to bringing you the latest trends, tips, and insights to enhance your everyday life. At Medialyf.com, we believe that a well-rounded lifestyle encompasses various aspects such as health, fitness, fashion, home decor, travel, and more. Our team of passionate writers and experts curate engaging content that will empower you to live your best life. Immerse yourself in a world of captivating articles, practical advice, and thought-provoking stories. Whether you're seeking advice on wellness routines, exploring new culinary delights, or looking for fresh fashion ideas, we've got you covered. Our goal is to inspire and motivate you to make positive changes, embrace new experiences, and unlock your true potential. Stay connected with us as we update our blog daily with exciting articles that cater to every facet of your lifestyle. From practical tips to unleash your productivity to discovering hidden gems in your city, Medialyf.com is your trusted companion on the journey towards a fulfilling and balanced life. We value our readers and aim to create a vibrant community where you can share your thoughts, experiences, and insights. Join us in the pursuit of knowledge, growth, and genuine connections. Remember to subscribe to our newsletter for exclusive content, special offers, and the latest updates delivered directly to your inbox. Follow us on social media platforms to stay connected with the Medialyf.com community and participate in engaging discussions. Thank you for visiting Medialyf.com, where lifestyle meets inspiration. Explore, engage, and embark on an incredible journey of self-discovery and personal growth with us. Together, let's embrace a life that's vibrant, meaningful, and truly extraordinary."